Showing posts with label MEDIA REPORTS. Show all posts
Showing posts with label MEDIA REPORTS. Show all posts

Thursday, April 21, 2011

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে- রাজপুর সোনারপুর পৌরসভায় উধাও উন্নয়ন:শুধু স্রোতে ভাসা


আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩ পৌষ ১৪১৬ শনিবার ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯



দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া
উধাও উন্নয়ন
শুধু স্রোতে ভাসা
শুভাশিস ঘটক
http://www.anandabazar.com/archive/1091219/19kolg1-1.jpg
রাস্তা ফুটিফাটা। নিকাশি নালা উপচে পড়ছে নোংরা। এলাকায় ব্লিচিং ছড়ানোর লোক নেই। মশার উপদ্রব বেড়ে চললেও পুরসভার কোনও হেলদোল নেই বলে পুরবাসীর অভিযোগ।

ওয়ার্ম আপকিন্তু চলছেই। মাস য়েক পেরিয়ে গেলেও রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা কিন্তু এখনও মাঠেই নামতে পারল না। গত জুলাইয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল জোট রাজপুর-সোনারপুর পুরবোর্ড দখল করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উন্নয়নের কোনও পরিকল্পনাই তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুরসভার পরিকল্পনা সহায়ক বোর্ড মিটিংয়ের সংখ্যা একটি, যা প্রতি মাসেই নিয়মিত হওয়া উচিত। ওই মাসিক অধিবেশনে পুর এলাকার উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরি করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি বাজেট অধিবেশন ও একটি বোর্ড মিটিং হয়েছে। প্রায় ছমাস পেরিয়ে গেলেও পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের একটিতেও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়নি।

http://www.anandabazar.com/archive/1091219/19kolg1-2.jpg

আগের বামফ্রন্ট বোর্ডের আমলে শুরু হওয়া কাজকর্মও থমকে গিয়েছে। কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে উন্নয়নের কাজ। কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ করার পরেও ঠিকাদারেরা বরাদ্দ অর্থ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের বোর্ডের হিসেব-নিকেশ স্পষ্ট নয়। ওই হিসেব পরিষ্কার না হলে ঠিকাদারদের বরাদ্দ অর্থ দেওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে পুরসভার প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও পুর-চেয়ারম্যান ইন্দুভূষণ ভট্টাচার্য বলেন, “বকেয়া বরাদ্দ অর্ধেক দেওয়া হয়েছে। বাকিটাও শীঘ্রই মিটিয়ে দেওয়া হবে।

রাস্তা-নিকাশি-বিদ্যুকোনও ক্ষেত্রেই নতুন কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি বলে বিরোধী সিপিএমের অভিযোগ। শুধু ২ নম্বর ওয়ার্ডেই ১৩টি টিউবওয়েল অনুমোদন করা হয়েছে। কিন্তু বাকি ওয়ার্ডগুলিতে টিউবওয়েলের অনুমোদন দেওয়া নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ২ নম্বর ওয়ার্ডেই কেন ১৩টি টিউবওয়েলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে? জবাবে চেয়ারম্যানের মন্তব্য: যা করা হয়েছে জনগণের স্বার্থেই হয়েছে।পাশাপাশি, নোদাখালি থেকে আর্সেনিকমুক্ত জল সরবরাহ প্রকল্পও মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। তা ছাড়া পুরসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি রয়েছে। ওই পদেও কোনও নিয়োগ হয়নি। বৃহ আবাসনের নকশা ছাড়া ছোট বাড়ির কোনও নকশা অনুমোদন হচ্ছে না অভিযোগ উঠেছে।

পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বিরোধী নেতা সিপিএমের কমল গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “কোনও কিছুই নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে না। বস্তুত, কী ভাবে পুরসভা পরিচালনা করতে হবে তাই বোধ হয় কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না। নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরসভার পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।তবে, ধাতস্থ হতে কিছুটা সময় যে লাগবে তা স্বীকার করেন চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি: আমরা সব কিছুই পরিকল্পনা করছি। উন্নয়নের কাজ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

http://www.anandabazar.com/archive/1091219/19kolg1-3.jpg

৩৫টি ওয়ার্ডের কোনওটিতেই ওয়ার্ড কমিটি গঠন না হওয়ায় উন্নয়নমূলক কোনও কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে পুরকর্তাদের একাংশের বক্তব্য। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়াটা নিয়ম। তা ছাড়া উন্নয়নমূলক কাজ কী ভাবে কতটা হচ্ছে ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরাই তা পর্যবেক্ষণ করেন।
পুর-পরিষেবার বেহাল চিত্রও ফুটে উঠেছে চার দিকে। ডিসেম্বর থেকে মার্চএই সময়ই উন্নয়নের কাজের উপযুক্ত সময়। রাস্তা থেকে নিকাশিনালা সংস্কার এই সময়ের মধ্যে করাটাই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন পুর বাস্তুকারদের একাংশ। কিন্তু কোনও পরিকল্পনা না হওয়ায় উন্নয়ন থমকে রয়েছে।

নিকাশি সমস্যায় জর্জরিত পুর এলাকায় নিকাশি নালা পরিষ্কার থেকে আরম্ভ করে নতুন নিকাশি পথসব কাজই শিকেয় উঠেছে বলে পুরবাসীদের অভিযোগ। তাঁদের অভিযোগ, বতর্মান পুরবোর্ড বিদ্যু ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কোনও পরিকল্পনাই করেনি। সোনারপুর ও রাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় ভেপার ল্যাম্প অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তা বদল করা হয়নি। মাস ছয়েক কোনও পরিষেবামূলক কাজ না হওয়ায় রাজ্য সরকারের কয়েকটি অনুদানও হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। কিন্তু কেন এই অবস্থা? চেয়ারম্যান ইন্দুভূষণ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা সবে শুরু করেছি। এক দিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হচ্ছে।

Saturday, April 16, 2011

CPI(M) condemns Trinamool attack on party MLA, local leaders

Kolkata, July 27: The CPI(M) on Monday condemned attacks on four of its local leaders, including an MLA, in South 24 Parganas district and alleged the Trinamool Congress had not desisted from the path of violence though its leader Mamata Banerjee had asked them to be polite. "The incidents of assault on CPI(M) workers and MLA once again proved that the Trinamool Congress has not deviated from the path of violence and anarchy despite the call by their leader Mamata Banerjee to be polite and gentle," CPI(M) state secretary Biman Bose said here on Monday.

Bose said the CPI(M) would organise protest-rallies across the state against Trinamool Congress` "ulterior motive to create anarchy".

The police said MLA Shyamal Naskar, CPI(M) zonal secretary Kajal Dey and two local leaders Tapan Bhattacharya and Sushanta Ghosh were severely beaten up and the windshields of their car smashed by some attackers at Chanditala More at Sonarpur.

Naskar later accused the Trinamool Congress of attacking them and said it was pre-meditated to scare Left Front activists in the area. The attack came after a meeting of the CPI(M) expressed concern at price rise and alleged lawlessness in the area.

While Bhattacharya and Ghosh were taken to hospital, Naskar and Dey went to Sonarpur police station to file an FIR and named some Trinamool activists for the attack.

Bureau Report

TIMES OF INDIA: CPM MLA, five others beaten up

TNN, Jul 27, 2009, 05.06am IST

SONARPUR: Six CPM supporters, including MLA Shyamal Naskar, party zonal secretary Kajal Dey and zonal member Susanta Ghosh, were injured on Sunday night when they were attacked allegedly by Trinamool supporters in Sonarpur. They were returning home after a meeting at Sonarpur More when the incident occurred.They alleged that a few weeks ago, some CPM men had been driven out of the locality by Trinamool activists and that they haven't been able to return since. The meeting on Sunday night was organised to bring those CPM workers back to their homes.The party leaders later lodged a complaint at Sonarpur police station. A Trinamool spokesman later said those who had been driven out of the area are CPM-backed goons and his party would not allow them in the locality.

Friday, April 15, 2011

তৃণমূলী জুলুমবাজির তিক্ত অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছেন মানুষ


অনিল কুণ্ডু

সোনারপুর, ২৮শে মার্চমানুষের ওপর তৃণমূলীদের জুলুমবাজির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শুনছেন সোনারপুরের বিধায়ক শ্যামল নস্কর। পঞ্চায়েত, পৌরসভায় তৃণূমলীরা ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মর্যাদা তো দূরের কথা দুর্ব্যবহারে মানুষের মনে জমে থাকা তৃণমূলীদের প্রতি ঘৃণা, ক্ষোভ জানাচ্ছেন খোলা মনে। বাড়ি বাড়ি নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে মানুষের এই অভিজ্ঞতার কথাই শুনছেন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সি ‍‌পি আই (এম) প্রার্থী শ্যামল নস্কর। নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে তিনি বললেন, মনের কথা বলছেন মানুষজন। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে হচ্ছে।

তৃণমূল পরিচালিত রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভায়, গ্রাম পঞ্চায়েতে পরিষেবা, কাজ নিয়ে তৃণমূলীদের সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বেআইনী পুকুর ভরাট, মানুষের ওপর জুলুমবাজি চলছে। তৃণমূলীদের দুর্ব্যবহারে নীরবে চোখের জল ফেলে ঘরে ফিরে এসেছেন বহু মানুষ। তাই বন্ধুকে বুঝে গিয়েছেন এখানকার নাগরিকরা। প্রতিবাদে সোচ্চারও হয়েছেন ঐক্যবদ্ধভাবে।

গত পাঁচ বছর ধরে মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী শ্যামল নস্কর। মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। সি পি আই (এম) সোনারপুর উত্তর জোনাল কমিটির সম্পাদক শ্যামল নস্কর এবারও বামফ্রন্টের প্রার্থী। কলকাতার লাগোয়া সোনারপুরের ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে। রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মসূচী রূপায়ণের ফলেই সোনারপুরে দ্রুত জনবসতি বেড়েছে। এলাকা পুনর্বিন্যাসের ফলে সোনারপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আসনটি দুটি বিধানসভায় ভাগ করা হয়েছে। রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার ১-৮ নম্বর ওয়ার্ড ও ২৭-৩৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা, খেয়াদহ ১,, কামরাবাদ, বনহুগলী ১, ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চা‌য়েত এলাকা নিয়ে পুনর্বিন্যাসের ফলে সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটর সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার। গত পাঁচ বছর ধরে এলাকার বিধায়ক হিসাবে সাধারণ মানুষের কাছে আপনজন হয়ে উঠেছেন শ্যামল নস্কর। মানুষের আপদে-বিপদে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। বামফ্রন্ট কর্মী, সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। মানুষজনও তাঁদের মনের কথা বলছেন আপনজনের কাছে। বামফ্রন্টের কর্মী, সমর্থকরা লালঝাণ্ডা নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মিছিল, বাড়ি বাড়ি প্রচারে নেমেছেন। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লাগোয়া খেয়াদহ ২নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঢালুয়া, দাসপাড়া। প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছেন বামফ্রন্টের কর্মী, সমর্থকরা। সাধারণ মানুষজনও এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নির্বাচনী প্রচারে যোগ দিলেন। প্রবীণ মানুষজনেরা আশীর্বাদ করলেন শ্যামল নস্করকে। মানুষের ভালোবাসা, শুভেচ্ছা নিয়েই নির্বাচনী প্রচারে যাচ্ছেন এক পাড়া থেকে আর এক পাড়ায়।

রাজ্যের ধারাবাহিক উন্নয়নের সাফল্য, শান্তি, সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা যেমন বামফ্রন্টের কর্মী, সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারে মানুষের কাছে তুলে ধরছেন তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি কংগ্রেস, তৃণমূল জোট সরকারের নীতির কারণেই সে কথাও তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারে। মানুষের অভিজ্ঞতাও তাই। মানুষজন বলছেন, বামপন্থীরা ইউ পি এ-১ সরকারের সমর্থনে যখন ছিলেন তখন কংগ্রেস পারেনি। আর এখন তৃণমূল কংগ্রেস। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। সচেতন মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়েই উপলব্ধি করছেন। আর তাই বামফ্রন্টকে জয়ী করার সংগ্রামে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। প্রবীণ মানুষজনদের সঙ্গে তরুণ যুবক, মহিলারা প্রচারে বেড়িয়েছেন বামফ্রন্ট প্রার্থী শ্যামল নস্করকে জয়ী করতে। খেয়াদহ, বনহুগলী, কামরাবাদ সর্বত্রই মানুষের ভিড়। জোরকদমে চলছে বামফ্রন্ট প্রার্থী শ্যামল নস্করের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার।

গণশক্তি, ২৯শে মার্চ, ২০১১

প্রসঙ্গ সোনারপুর রেল ওভারব্রিজ


আনন্দবাজার পত্রিকা, ১০ পৌষ ১৪১৬ শনিবার ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯

দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
সেই ট্র্যাডিশন

ঝুঁকির পারাপার

দেবাশিস দাস 

দুচাকার যান পারাপারের জন্য রয়েছে আলাদা ওভারব্রিজ। কিন্তু নিজেদের সুবিধার জন্য দিনের অধিকাংশ সময়েই ওই পথ এড়িয়ে চলেন দুচাকার যানের আরোহীরা। আপ অথবা ডাউন লাইনের ট্রেন সোনারপুর জংশনে থামলে যাত্রী, পথচারী এবং মোটরবাইক, স্কুটার, সাইকেল মিলে রেললাইনের উপরেই তীব্র জটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এই জটে আটকে যায় ট্রেনও।
স্কুটার নিয়ে প্রতি দিন এই পথেই যাতায়াত করেন প্রমিত নস্কর। তিনি বলেন, “পেশার প্রয়োজনে দিনে অন্তত ছবার আমাকে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ওভারব্রিজের চেয়ে আমার কাছে রেললাইনের উপর দিয়ে যাতায়াত করা অনেক সুবিধাজনক।এই পথে দুচাকার যান নিয়ে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাঁদের অধিকাংশই প্রমিতবাবুর মতো রেললাইনের উপর দিয়ে যাতায়াতকেই সুবিধাজনক বলে মনে করেন। মোটরবাইক আরোহী শুকদেব চক্রবর্তীর যুক্তি: ‘‘ওভারব্রিজটি খুব উঁচু। ফলে গাড়ি নিয়ে ওঠানামা করতে সমস্যা হয়। নামার পথটা খুব ঢালু। আর গাড়ি নিয়ে নামার পরে বার হওয়ার পথ খুব সঙ্কীর্ণ। তাই রেললাইন দিয়ে আসা-যাওয়া অনেক সহজ হয়।
সোনারপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাবলা ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন সোনারপুরে এই ওভারব্রিজটি তৈরি করা হয়েছিল। ওভারব্রিজ থেকে নামার পরে বের হওয়ার রাস্তাটার হাল খারাপ। সোনারপুরে রেলের কাজের তদারকির দায়িত্বে যাঁরা আছেন তাঁদের এই সমস্যার কথা জানিয়েছি। তাঁরা সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।’’
যাত্রী এবং পথচারীদের পারাপারের সুবিধার জন্য যে ওভারব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল তা সারা দিন কার্যত ফাঁকাই পড়ে থাকে। অনেকে এই ওভারব্রিজে ওঠার পথটিতে সাইকেল এবং স্কুটার রেখে চলে যান। ট্রেনের হকাররা অনেক সময় ওভারব্রিজে ওঠার মুখটিতে পণ্যবোঝাই ঝুড়ি জমিয়ে রেখে দেন। ভবঘুরেরা ওভারব্রিজের এখানে-ওখানে শুয়ে থাকেন। ওভারব্রিজ থেকে নামার পরে বাইরে বের হওয়ার পথটি চলে গিয়েছে দোকান এবং হকারদের দখলে। সোনারপুরের বিধায়ক শ্যামল নস্কর বলেন, ‘‘যে সময় এই ওভারব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল তখন সোনারপুর রেলযাত্রী সমিতি এবং নাগরিক কমিটির তরফ থেকে রেল দফতরের কাছে রেলগেটে একটি ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদনকে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে ওভারব্রিজ তৈরি করায় সমস্যার কোনও সমাধান হল না।’’  
বাসিন্দাদের মতে, সোনারপুর রেলগেটের ক্রসিংটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। রেললাইনের পশ্চিমে রেলগেট এবং পুবে সোনারপুর বাজার। সঙ্গে স্টেশন থাকায় এই এলাকায় সারা দিন ভিড় থাকে। প্রতি দিন সকাল এবং সন্ধের সময় সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাসিন্দা প্রতিমা মণ্ডল বললেন, “আমরা ঝুঁকি নিয়েই সব সময় লাইন পারাপার করি। আসলে ওভারব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে অনেকটা ঘুরতে হয়।

সোনারপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সিপিএমের কমল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “রেলগেটে মানুষ যে ভাবে পারাপার করেন তাতে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ওভারব্রিজের ব্যবহার সর্ম্পকে মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য কিছু কর্মসূচি নিতে পারে পুরসভা। বর্তমান পুর-চেয়ারম্যান তৃণমূলের ইন্দুভূষণ ভট্টাচার্য বলেন, “স্টেশনে যে ওভারব্রিজ রয়েছে তা মানুষ ব্যবহার করবে কি করবে না এই বিষয়ে পুরসভার কিছু করার নেই। তবে রেলগেট এবং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার কিছু সমস্যা রয়েছে। তা সমাধানের বিষয় নিয়ে পূর্ত দফতরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’’
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সমীর গোস্বামী বলেন, “ওখানকার সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে যাত্রীদের অসুবিধার দিকটি খোঁজ নিয়ে দেখব।

প্রসঙ্গ জঞ্জাল সাফাই


আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৩ পৌষ ১৪১৭ শনিবার ৮ জানুয়ারি ২০১১
পরিষেবায় গাফিলতি
জমছে জঞ্জাল
দেবাশিস দাস
বাঁশি বাজতে বাজতে বিকেল। তত ক্ষণে বাড়ির আবর্জনা রাস্তায় বা আশপাশের ফাঁকা জায়গায়। রাজপুর-সোনারপুর পুর-এলাকার এটিই নিত্য দিনের ঘটনা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি অধিকাংশ দিনই নির্ধারিত সময়ে আসে না। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি দিনের ময়লা জমিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। তাই আশপাশে ময়লা ফেলতে তাঁরা বাধ্য হন। যদিও পুর-কর্তৃপক্ষ বিষয়টির দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা ফুলমণি মৈত্র বলেন, “ময়লা সংগ্রহের গাড়ি আসার কোনও সময় ঠিক থাকে না। কোনও কোনও দিন আসেও না। ফলে জমা আবর্জনা বাড়িতেই রেখে দিতে হয়। অনেকের পক্ষে বাড়িতে জঞ্জাল রাখা সম্ভব নয়। তাই বাসিন্দাদের একাংশ আশেপাশে ময়লা ফেলেন।তবে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা আটকাতে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা বোর্ড টাঙিয়ে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধবলে প্রচারও চালাচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা জমে থাকছে।
রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সিপিআই-এর তড়িৎ চক্রবর্তী বলেন, “বর্তমান পুরবোর্ড নির্বাচনের আগে বাসিন্দাদের বিনামূল্যে আবর্জনা অপসারণের পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজও বাসিন্দাদের অর্থ দিতে হয়। অথচ তাঁরা পরিষেবা ঠিকমতো পান না।পুরসভার প্রান্তিক ওয়ার্ডগুলির বাসিন্দারা জঞ্জাল অপসারণ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধগড়িয়া, মহাময়াতলা, বোড়াল, রানিয়ার মতো এলাকাগুলিতে প্রতি দিন জঞ্জাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া মাঝেমধ্যেই ব্যাহত হয় বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজপুর-সোনারপুরের নতুন পুরবোর্ড আবর্জনা সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিই বজায় রেখেছে। পুরসভা সূত্রে খবর, আবর্জনা অপসারণের ক্ষেত্রে কর্মীর অভাব রয়েছে।
গত বোর্ডের সময় যে সংস্থাগুলি এই জঞ্জাল অপসারণের দায়িত্বে ছিল তারাই এখনও এই কাজের জন্য পুরসভার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এলাকায় লোকবসতি আগের চেয়ে অনেক বেড়ছে। ফলে কাজের চাপও বেড়েছে। কিন্তু বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বাড়েনি। ফলে কর্মী সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। পুর-কর্তৃপক্ষ জানান, জঞ্জাল সংগ্রহ প্রক্রিয়ার এই পরিকাঠামোগত সমস্যা পুরনো বোর্ডের সময় থেকেই চলছে।
সমস্যার কথা স্বীকার করে পুরসভার নিকাশি ইনস্পেক্টর প্রশান্ত সিংহরায় বলেন, “জঞ্জাল অপসারণের কাজটি করা হয় ওয়ার্ডভিত্তিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে। এই সব সংস্থার সঙ্গে স্থানীয় যুবকরাই যুক্ত। এদের কেউ কাজে আসতে দেরি করলে বা না এলে জঞ্জাল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অবশ্যই ব্যাহত হয়।
বর্তমান পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান পারিষদ (স্বাস্থ্য) তৃণমূলের পল্লবকুমার দাসের কথায়: এই কাজের সঙ্গে যে সংস্থাগুলি যুক্ত আছে তাদের সঙ্গে খুব শীঘ্রই আলোচনায় বসব।পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলের ইন্দুভূষণ ভট্টাচার্য বলেন, “আবর্জনা সংগ্রহের প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুরসভা সরাসরি যুক্ত নয়। ওয়ার্ডভিত্তিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে এই কাজ করা হয়। এই সংস্থাগুলিকে পুরনো বোর্ডই ঠিক করেছিল। কাজের গাফিলতির জন্য এর মধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি সংস্থাকে বাতিল করে দিয়েছি। 

প্রসঙ্গ সোনারপুর বাজার


আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৭ পৌষ ১৪১৬ শনিবার ২ জানুয়ারি ২০১০
দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
বাজারে গ্রহণ
দেবাশিস দাস  

সোনারপুর জংশনের পাশে এই সোনারপুর বাজারের নিয়মিত ক্রেতাদের অধিকাংশকেই এখন আর মূল বাজার পর্যন্ত যেতে হয় না। কারণ, মূল বাজারকে কেন্দ্র করে বাইরের রাস্তায় গজিয়ে উঠেছে আরও একটা বাজার, যেখানে শাক-সব্জি, তরিতরকারি, চাল, মাছ-সহ সব কিছুই পাওয়া যায়। মূল বাজারকে ঘিরে বহু জায়গাতেই বাইরে বাজার বসে, কিন্তু এখানে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও মূল বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

বতর্মানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সোনারপুর স্টেশন সংলগ্ন রাস্তা দখল করে চলা বিকিকিনি, দোকানিদের পসরা, পথচারী, যানবাহন সব মিলেমিশে জগাখিচুড়ি পরিবেশে তিতিবিরক্ত এলাকার মানুষ। বহু দিনের বাসিন্দা প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দিনের পর দিন এ ভাবেই চলছে। কেউ কোনও আইন মানে না। যে যেখানে খুশি ঝুড়ি নিয়ে বসে পড়ে।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুর বাজারের বাইরে যাঁরা পসরা নিয়ে বসতেন, বছর পনেরো আগে তাঁদের অধিকাংশকে সরিয়ে বাজারের ভিতরে আনা হয়েছিল। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে বাজারের চারপাশটা আবার দখল হয়ে যায়। মূল বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী সমর ঘোষের কথায়: আমাদের যখন রাস্তা থেকে তুলে এনে বাজারের ভিতরে জায়গা দেওয়া হল তখন কথা দেওয়া হয়েছিল, রাস্তায় কেউ আর বসবে না। কিন্তু এখন দেখছি পেট চালানোই দায়। আমাদের সমস্যাকে কোনও রাজনৈতিক দলই গুরুত্ব দেয় না। পুরপ্রধান থেকে মুখ্যমন্ত্রী, সকলকে আমরা এই সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাননি।যদিও বাইরে বসা ব্যবসায়ীদের অনেকে বলেন, তাঁরা বহু দিন ধরেই এ ভাবে বসছেন। তাঁদের কোনও দিনই কেউ কিছু বলেননি। 

সোনারপুর এলাকার পুরনো এই বাজারে অনেক দিন কোনও সংস্কারের কাজ হয়নি। বাজার কমিটির সদস্য ও নিয়মিত চাঁদা সংগ্রাহক শিবু হালদার বলেন, ‘‘বাজারে প্রায় তিনশো দোকান আছে। কিন্তু বিক্রিবাটা কমে যাওয়ায় তার মধ্যে অনেকে নিয়মিত দোকান খোলেন না। যা চাঁদা ওঠে তা বাজার পরিষ্কার, পাহারা আর বিদ্যুতের বিল মেটাতে চলে যায়। এখনও অবধি যেটুকু কাজ হয়েছে তা সম্ভব হয়েছে বছর তিরিশ আগে তোলা বাজার কমিটির পয়সায়।আর এক ব্যবসায়ী জয়দেব ঘোষ জানান, কয়েক বছর বাজারের নর্দমা পরিষ্কার করা হয় না। বর্ষার সময় জল জমে এমন অবস্থা হয় যে দোকান খোলা যায় না। বাজারের অধিকাংশ দোকান বেড়া আর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি। চাল বাজারের একটা অংশ পাকা হলেও তা অর্ধসম্পন্ন। বাজার জুড়ে ইলেকট্রিকের তার ঝুলছে বিপজ্জনক ভাবে। সর্বত্র অযত্নের ছাপ স্পষ্ট। বাজারের ব্যবসায়ীরা চান, পুরসভা বা সরকার এই বাজারটি অধিগ্রহণ করে বাজারের নীচের অংশে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দিয়ে বাকি অংশ বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করুক।

সোনারপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাবলা ঘোষ জানান, হঠাৎ দখলদারদের তুলতে গেলে বিক্ষোভ হতে পারে। সমস্যাটি নিয়ে তাঁরা সোনারপুর ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাস্তার পাশে যে নর্দমা রয়েছে তা পার করে কেউ পসরা নিয়ে বসতে পারবেন না। খুব শীঘ্রই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিমাই মণ্ডল বলেন, “বাজারের মালিকানা নিয়ে শরিকি সমস্যা রয়েছে। পুরসভায় বামফ্রন্টের দ্বিতীয় মেয়াদে যখন এই বাজার হস্তান্তরের একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তখন বাজারের উন্নয়নের জন্য টাকাও বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু জটিলতার জন্য হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে যায়। বরাদ্দ অর্থ চলে যায় অন্যত্র। এখন যদি সব পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নেয় তবেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সোনারপুরের সিপিএম বিধায়ক শ্যামল নস্কর বলেন, “বাজারের সমস্যা নিয়ে সোনারপুর-রাজপুর পুরসভার পুরনো বোর্ড এক বার উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু পরে আবার হকারদের নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সমস্যা সমাধানের পথ পুরসভার নতুন বোর্ডকে করতে হবে। হকারদের সুনির্দিষ্ট জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে রাস্তাটা দখলমুক্ত করা উচিত। এই কাজে পুরসভার নতুন বোর্ডকে সাহায্য করতেও আমি রাজি। পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সিপিএমের কমল গঙ্গোপাধ্যায়ও বলেন, “পুরসভার নতুন বোর্ডকেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাজার সমস্যার সমাধান করতে হবে।

তবে বর্তমান পুর-চেয়ারম্যান ইন্দুভূষণ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, সোনারপুর বাজারের বাইরে হকারদের যে সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে তার পিছনে পুরনো পুরবোর্ডের পরিচালকদের যথেষ্ট মদত ছিল। তিনি বলেন, “আজ যদি আমরা বাজারের রাস্তা থেকে হকারদের তুলতে যাই, তা হলে যাঁরা মুখে সাহায্যের আশ্বাস দিচ্ছেন তাঁরাই সর্বাগ্রে বিরোধিতা করতে এগিয়ে আসবেন। তবে সোনারপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা যে অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন তা আমাদের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। 

সোনারপুরে দমকল কেন্দ্রের দাবি একাধিকবার বিধানসভায় তোলেন শ‌্যামল নস্কর


আনন্দবাজার পত্রিকা  ১৫ মাঘ ১৪১৭ শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০১১
দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
দমকল কেন্দ্র

সুরক্ষা সুদূর 
দেবাশিস দাস

নগরায়ণের ফলে লোকসংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে বহুতল ও শিল্পসংস্থার সংখ্যাও। কিন্তু এখনও গড়ে ওঠেনি অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা। ফলে নির্ভর করতে হচ্ছে অন্য এলাকার দমকল কেন্দ্রের উপরে। রাজপুর-সোনারপুরের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, আগুন লাগলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বোয়ালিয়া থেকে রানিয়া এবং গড়িয়া থেকে গোবিন্দপুর পর্যন্ত বিস্তৃত রাজপুর-সোনারপুরে আজও কোনও দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এলাকায় দিনের পরে দিন বহুতলের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে নানা সংস্থার অফিস ও শিল্পকেন্দ্র। এলাকার বাসিন্দা রণজিৎ রায়ের কথায়: ‘‘উন্নয়ন নিয়ে অনেক কথা শুনলেও দমকল কেন্দ্র নির্মাণের দাবি কারও মুখে শুনিনি।

এই অঞ্চল অগ্নিনির্বাপণের জন্য মূলত বারুইপুরের ফুলতলা, বৈষ্ণবঘাটা পাটুলি এবং নাকতলা সংলগ্ন খানপুরএই তিনটি কেন্দ্রের উপরে নির্ভরশীল। দমকল দফতর সূত্রে খবর, এই তিনটি কেন্দ্রে দুটি করে ইঞ্জিন থাকে। তাদের পক্ষে এত বড় এলাকায় কাজ চালানো মুশকিল। তা ছাড়া এই সব কেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মীর সংখ্যা কম। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দমকল কেন্দ্র না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে বাস করতে হচ্ছে। প্রশাসনের উদ্যোগের অভাব রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা চয়ন সেন বলেন, “এলাকায় আগে অনেক জলাশয় ছিল। লোকসংখ্যাও কম ছিল। এখন জনবসতি দ্রুত বাড়ছে। জলাশয়ও কমছে। তাই এলাকায় একটি দমকল কেন্দ্রের খুব প্রয়োজন।এলাকাবাসীর দাবিকে সমর্থন করে সিপিএম বিধায়ক শ্যামল নস্কর বলেন, “এলাকায় দমকল কেন্দ্রের দাবি বিধানসভায় একাধিক বার জানিয়েছি। আবার জানাব।

কিন্তু এত দিনেও কেন দমকল কেন্দ্র তৈরি হয়নি?

দমকল সূত্রের খবর, দমকল কেন্দ্র তৈরির জন্য ন্যূনতম ৪০.৪০ একর জমির প্রয়োজন। এই জমিটি খাস হলে সুবিধে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য দমকল দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “এই জমিটি খুঁজে দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। জমি পাওয়ার পরে দফতর দমকল কেন্দ্র নির্মাণে উদ্যোগী হতে পারে। তবে জমিটি এমন জায়গায় হতে হবে যাতে সহজে এলাকার সর্বত্র পৌঁছনো যায়।রাজ্য দমকল দফতরের অধিকর্তা গোপাল ভট্টাচার্য বলেন, “প্রশাসন যে জায়গায় জমির ব্যবস্থা করে আমরা সেখানেই দমকল কেন্দ্র নির্মাণ করি। 

তবে এ ক্ষেত্রে জমির সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বর্তমান এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান। বর্তমান চেয়ারম্যান তৃণমূলের ইন্দুভূষণ ভট্টাচার্য বলেন, “জায়গা কোনও সমস্যা নয়। প্রয়োজনে পুরসভা আরও সাহায্য করতে পারে।প্রাক্তন চেয়ারম্যান সিপিএমের কমল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার সময় এক বার চেষ্টা করেছিলাম। তখন বারুইপুরের ফুলতলায় হয়। তবে জমি কোনও সমস্যা নয়।

এলাকার সিপিআই নেতা তড়িৎ চক্রবর্তী বলেন, “রাজপুর-সোনারপুরে দমকল কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টিকে কোনও দিন গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা হয়নি।রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রবীন করের কথায়: আগুন লাগলে ভয়াবহ অবস্থা হয়। বর্তমান চেয়ারম্যানকে সমস্যার কথা জানিয়েছি।গোটা সমস্যার কথা জেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাধিপতি তৃণমূলের শামিমা শেখ বলেন, “এই বিষয়ে স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েত জেলা পরিষদকে জানাবে। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।